ছবি (ফাইল ছবি): নিঝুম দ্বীপে মাছ ধরার নৌকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ — Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ ঘিরে ঘোষিত সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া বা এমপিএ) সম্পর্কে স্থানীয় জেলে ও সম্পদ ব্যবহারকারীদের বড় অংশই জানেন। কিন্তু এলাকাটি কীভাবে চলবে, কোন নিয়ম মানতে হবে কিংবা সুবিধা কারা পাবেন—এসব সিদ্ধান্তে তাঁদের অংশগ্রহণ খুবই সামান্য। স্প্রিঙ্গার নেচারের জার্নাল Discover Oceans-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
বঙ্গোপসাগরের নিঝুম দ্বীপ এমপিএ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা, ঘোষণা করা হয় প্রায় ছয় বছর আগে। গবেষকেরা এই এলাকার ওপর নির্ভরশীল ৩৮৪ জন সম্পদ ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ চালিয়েছেন। উত্তরদাতাদের গড় বয়স ৩৭.৬ বছর, পরিবারে গড়ে প্রায় ৫ জন সদস্য, আর ৮২ শতাংশের বেশি মানুষ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সাগরের ওপর জীবিকা চালাচ্ছেন।
জানেন অনেকে, অংশ নেন কম
জরিপে প্রায় ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা সংরক্ষিত এলাকার কথা জানেন। অথচ কোনো পরামর্শ সভায় অংশ নিয়েছেন মাত্র ৮ শতাংশ। সংরক্ষিত এলাকার বাজেট বা তথ্য প্রকাশ সম্পর্কে জানেন ৫.৫ শতাংশ। ২৩ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো তথ্যই পাননি বলে জানিয়েছেন। সরকারি উৎস থেকে তথ্য পেয়েছেন অর্ধেকেরও কম; প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নির্ভর করেছেন স্থানীয় নেতাদের ওপর। তথ্য পৌঁছানোয় এনজিওর ভূমিকা ২ শতাংশেরও কম।
এলাকাটি প্রতিষ্ঠার আগে মতামত নেওয়া হয়েছিল ৩০ শতাংশেরও কম উত্তরদাতার কাছ থেকে। নিয়ম প্রয়োগে প্রধান ভূমিকায় কোস্টগার্ডকে দেখছেন প্রায় ৮৪ শতাংশ; অংশীজনদের নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার কথা বলেছেন মাত্র ১০ শতাংশ।
নিষেধাজ্ঞায় সহায়তা পাননি অর্ধেকের বেশি
মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা। আর ৮১ শতাংশ মনে করেন, সংরক্ষিত এলাকার সুফল ন্যায্যভাবে বণ্টন হচ্ছে না। গবেষকদের মতে, অংশগ্রহণ ও আস্থার এই ঘাটতি দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণের লক্ষ্যকেই দুর্বল করতে পারে।
উষ্ণ হচ্ছে সাগর, কমেছে ভূমি
গবেষণায় স্যাটেলাইট ও জলবায়ু উপাত্তও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এলাকার সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য উষ্ণায়নের প্রবণতা পাওয়া গেছে, তবে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রবণতা মেলেনি। ২০১৬ সালের তুলনায় ম্যানগ্রোভের আয়তন সামগ্রিকভাবে বেড়েছে, কিন্তু একই সময়ে স্থলভাগ কমেছে প্রায় ৩.৬ শতাংশ। লেখকেরা অবশ্য এই ফল সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করার কথা বলেছেন।
গবেষণার সীমাবদ্ধতাও উল্লেখ করেছেন লেখকেরা: এতে জীববৈচিত্র্যের ওপর সংরক্ষিত এলাকার প্রভাব পরিমাপ করা হয়নি, আর তুলনা করার মতো কোনো নিয়ন্ত্রণ এলাকাও ছিল না।
কী করার সুপারিশ
গবেষকেরা নিঝুম দ্বীপ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০২১–২০৩৫-এ থাকা অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছেন, যেমন নিবন্ধিত জেলেদের নিয়ে ইউনিয়ন সংরক্ষণ কমিটি গঠন। প্রশিক্ষণ, ঋণ ও সামাজিক সুরক্ষার মতো জীবিকা সহায়তা যাচাই করা জেলেদের সঙ্গে যুক্ত করা, নোটিশ বোর্ড ও সভার মাধ্যমে বাজেট ও নিয়মকানুন প্রকাশ করা এবং এসবের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনকে বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করার কথাও বলা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: Raze, Yabar ও Mizunoya (২০২৬), Discover Oceans (Springer Nature) জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা; Scienmag (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)











